Breaking News
Home / দেশ বিদেশ / ভারতীয় মুদ্রায় কখন সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি ছাপানো হয়েছিল? আর কেনই বা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল জানেন

ভারতীয় মুদ্রায় কখন সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি ছাপানো হয়েছিল? আর কেনই বা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল জানেন

ভারতকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। এই আজাদ হিন্দ ফৌজকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এবং দেশকে স্বাধীনতা প্রদানের জন্য একজন নায়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন। যখনই ভারতের স্বাধীনতার কথা বলা হয়, তখন সুভাষচন্দ্র বসুকেই নায়ক হিসেবে স্মরণ করা হয়।

আজ আমরা আপনাদেরকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি দেওয়া নোটগুলির সম্পর্কে বলতে যাচ্ছি। আপনারা কি জানেন যে, এই নোটগুলো কবে ছাপা হয়েছিল? এবং কেন এই নোটগুলোকে ছাপানো হয়েছিল? এবং নোটগুলিকে বন্ধ করার কারনই বা কী ছিল? আসুন আমরা আপনাদেরকে বলি এর পিছনে আসল কারণ কি ছিল। 1941 সালে সুভাষচন্দ্র বসুকে ব্রিটিশরা তাদের হেফাজতে নিয়েছিল।

আর ব্রিটিশদের হাত থেকে বাঁচার জন্য নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। এরপরে, 1942 সালে, মোহন সিং আজাদ হিন্দ ফৌজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর 1943 সালে, সুভাষচন্দ্র বসু এই সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং সিঙ্গাপুরে একটি অস্থায়ী সরকার গঠনের ঘোষণা করেন। এই সরকার আজাদ হিন্দ বাহিনীর ছিল এবং এই সরকারের প্রধান ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু নিজেই।

সুভাষচন্দ্র বসুর এই সরকার গঠনের পিছনে একটি কারন ছিল। কারনটি হল, তিনি ভারতে ব্রিটিশ সরকারের শাসন মেনে নেননি। এই কারনেই তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং তার নিজস্ব একটি পৃথক সরকার গঠন করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, যখন জাপান এবং ব্রিটেন একে অপরের শত্রু ছিল, তখন নেতাজি জাপানের থেকে সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তিনি জাপান কে বলেছিলেন যে, আমরাই আমাদের দেশের প্রতিনিধি এবং আমাদের দেশটিকে ব্রিটিশরা জোর করে দখল করে রেখেছে। এই কারণেই আমরা ব্রিটিশদের ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য জাপানের সহায়তা চাই। এই সময়ে সুভাষচন্দ্র বসুর দ্বারা গঠিত আজাদ হিন্দ বাহিনীকে জার্মানি, ইতালি, ফিলিপাইন, কোরিয়া, চীন, জাপান এবং আয়ারল্যান্ডের দেশগুলি পুরোপুরি স্বীকৃতি দিয়েছিল।

তারপরে, সুভাষচন্দ্র বসু ভারতকে স্বাধীন করার জন্য ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সুভাষচন্দ্র বসু এরজন্যে ভারত থেকে প্রচুর সমর্থন পেয়েছিলেন। ভারতবাসীও এগিয়ে এসে আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্য অনুদান দিয়েছিলেন। এই অর্থ পরিচালনার জন্য 1944 সালে আজাদ হিন্দ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই ব্যাংকটি রেঙ্গুনে স্থাপিত হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠার পরে সুভাষচন্দ্র বসুরও অর্থের দরকার হয়ে পড়ে এবং তারা কেবল আজাদ হিন্দ ব্যাংকের অধীনেই তাদের মুদ্রা জারি করেছিল। আর যে যে দেশগুলি আজাদ হিন্দ সরকারকে সমর্থন করেছিল। এই আজাদ হিন্দ ব্যাংক 5, 10, 100, 150, 1000 এবং 5000 ডলার ও 100000 ডলারের নোট জারি করেছিল। 1947 সালে ভারত যখন দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছিল তখন একটি নতুন সংবিধান রচনা করা হয়েছিল।

আর সেখানেই আজাদ হিন্দ ব্যাংকের জারি করা নোটগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এরপরে 1950 সালে দেশের নতুন সংবিধান কার্যকর হয় এবং এই নোটগুলো চিরকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। বহু বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের একজন বাসিন্দা পৃথ্বীশ দাশগুপ্ত ভারতের অর্থমন্ত্রী এবং আরবিআই কে একটি চিঠি লিখেছিলেন।

তিনি সেখানে বলেছিলেন যে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিই ভারতীয় মুদ্রার নোটে ছাপানো উচিত। কিন্তু তিনি এই চিঠির কোনও উত্তর পাননি। এরপরে তিনি এই বিষয়টিকে কলকাতা হাইকোর্টে জানিয়েছিলেন। তারপর 2010 সালে রিজার্ভ ব্যাংকের একটি প্যানেল প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিল যে, “মহাত্মা গান্ধী ব্যতীত এই দেশে আর কোনো ব্যক্তি নেই যিনি পুরোপুরিভাবে ভারতের মূল্যবোধ প্রকাশ করতে পারেন।।”

About Sahelee Debnath

Check Also

এবার গাধারাও পাবে দুগ্ধজাত প্রাণীর সম্মান, গুজরাটে তৈরি হতে চলেছে গাধার ডেয়ারী, ঘরে বসে পাবেন গাধার দুধ।

বুদ্ধিহীন প্রাণীদের তালিকায় শীর্ষে থাকা গাধা টি আপনাকে এখন ফিট করে তুলবে। এখন ও অব্দি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x