Breaking News
Home / জানা অজানা / রাস্তার ধারে ঠেলা গাড়ি থেকে আজ রেস্টুরেন্টের মালকিন এই বিত্তশালী পরিবারের বউ। – কিভাবে জানুন

রাস্তার ধারে ঠেলা গাড়ি থেকে আজ রেস্টুরেন্টের মালকিন এই বিত্তশালী পরিবারের বউ। – কিভাবে জানুন

রাস্তার ধারে ঠেলা গাড়িতে কাউকে কিছু বিক্রি করতে দেখলে মনে হয় তাঁর বেকারত্ব আজ তাঁকে এমন জীবিকা বেছে নিতে বাধ্য করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই মন্তব্য ঠিক হলেও সব ক্ষেত্রে এই মন্তব্য প্রযোজ্য হয় না। এমনই একজন হলেন উর্বশী যাদব। আচ্ছা আপনাকে যদি বলা হয় এক বিত্তশালী পরিবারের বউ রাস্তার ধারে ছোলা-কুলচা বিক্রি করেন আপনি কি তা সহজে বিশ্বাস করবেন?

বিশ্বাস না করাটাই স্বাভাবিক। উর্বশী যাদবের ঘটনা না শুধু জীবনের লড়াইকে দেখায় সাথে জীবনের বাস্তবতাকেও দেখায়। উর্বশী দেবীর জীবন কোনো ফিল্মের কাহিনি থেকে কম নয়। তাঁর বিয়ে হয়েছিল গুরুগ্রাম -এর এক বিত্তশালী পরিবারে। তাঁর স্বামী অমিত যাদব এক কন্সট্রাকশন কম্পানি তে উচ্চপদে চাকরি করতেন। উর্বশীর পরিবার সুখী পরিবারের এক দৃষ্টান্ত ছিল।

কিন্তু এই সুখী পরিবারে যেন কার নজর লেগে গেল। গুরুগ্রামের এক বিশাল বাড়িতে সুখে থাকা উর্বশীর জীবন বদলে গেল তাঁর স্বামীর অ্যা-ক-সি-ডে-ন্ট -এর কারণে। এই ঘটনার পর অমিতবাবুকে অনেক ট্রিটমেন্ট আর সা-র্জা-রি করাতে হয়। এত ট্রিটমেন্ট এর পরেও তিনি কাজ করতে সক্ষম ছিলেন না। এই কারণে রাতারাতি গোটা পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্ব চলে আসে উর্বশীর কাঁধে।

অমিতবাবুর চি-কি-ৎ-সায় অনেক খরচ হয়ে যায়। উর্বশী দেবীকে কাজের খোঁজ শুরু করতে হয়, কিন্তু তাঁর কোনো কম্পানিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি চাকরি পাচ্ছিলেন না। কিছু সময় পর তিনি এক নার্সারি স্কুলে চাকরি পেয়ে যান। কিন্তু সেই স্কুল থেকে তাঁর খুব বেশি টাকা আয় হচ্ছিল না। তাঁর স্বামীর ওষুধ আর চি-কি-ৎ-সা অত কম টাকায় সম্ভব হচ্ছিল না। তাই তিনি দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু তাঁর কাছে অত টাকা না থাকায়, তিনি ভাবেন এক ঠেলা গাড়িতে তিনি নিজের দোকান খুলবেন।
এই কথা তাঁর পরিবারকে জানাতেই সবাই এর বিরোধিতা করেন। সমাজের সম্মানীয় কোনো পরিবারই নিজের বাড়ির বউকে ঠেলা গাড়িতে জিনিস বিক্রির অনুমতি দেবে না। কিন্তু কিছু সময় পর তাঁর পরিবার মেনে যায়। যাঁর AC তে থাকার অভ্যাস গুরুগ্রামের সেক্টর ১৪ তে কাঠফাটা রোদে ছোলা-কুলচা বানানো আর গ্রাহকদের ডেকে তা বিক্রি করা খুবই সমস্যার ছিল।

কিন্তু তিনি হার মানেননি। তাঁর কঠোর পরিশ্রম একসময় তাঁকে গুরুগ্রামের সেক্টর ১৪ তে জনপ্রিয় করে দেয়। উর্বশীর ছোলা-কুলচা গ্রাহকদের এত ভালো লেগে যায় যে অন্য কারোর ছোলা-কুলচা তাঁদের আর ভালো লাগত না। প্রথম দিকে তাঁর আয় প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৩০০০ হত, যা তাঁর নার্সারি স্কুলের আয় থেকে অনেক বেশি ছিল।

ধীরে ধীরে তাঁর পরিশ্রম সফল হতে থাকে। তাঁর ঠেলা গাড়িতে তৈরি ছোলা-কুলচা সোশ্যাল মিডিয়াতে এত ফেমাস হয়ে যায় যে দূর দূর থেকে অনেকে সেক্টর ১৪ তে আসতেন তাঁর তৈরি ছোলা-কুলচা খেতে। আজ উর্বশী তাঁর সেই ঠেলা গাড়িকে রেস্টুরেন্টে পরিণত করেছেন নিজের পরিশ্রমের জোরে। তাই বলা হয় মানুষ নিজের পরিশ্রমের জোরে যেকোনো সফলতা লাভ করতে পারে।

About Sahelee Debnath

Check Also

লাগান ছবির আমির খান এর এই হিরোইন কেন এখন আর ফিল্মে কাজ পান না?জেনে নিন বিস্তারিত।

প্রতিদিনই নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে কেউ না কেউ বলিউডের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। অনেকেই নিজের ফার্স্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x